দ্য পাওয়ার অফ ইয়োর সাবকনশাস মাইন্ড বাংলা রিভিউ

দ্য পাওয়ার অফ ইয়োর সাবকনশাস মাইন্ড এক কথায় বললে – এটা সত্যিই পড়ার যোগ্য বই। জোসেফ মারফির এই ক্লাসিক বাংলায় পড়লে অবচেতন মনের শক্তি খুব সহজে বোঝা যায়। আপনার চিন্তা কীভাবে স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে সাফল্য পর্যন্ত সবকিছু গড়ে তোলে, সেটাই শেখায়।

বইটা ১৯৬৩ সাল থেকে কোটি কপি বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশে বই রথ অনেকে ৪+ রেটিং দিয়েছে। নেগেটিভ চিন্তায় আটকে থাকলে এটা ভালো শুরু।

বইয়ের মূল কথা হলো আপনার সচেতন মন অর্ডার দেয়। অবচেতন মন সেটাই বাস্তব করে। কিন্তু নিয়মিত করতে হবে।

The Power of the Subconscious Mind বইটি কি পড়ার যোগ্য?

হ্যাঁ, বইটা একদম পড়ার যোগ্য। সোজা ভাষায় লেখা। কোনো জটিল কথা নেই।

আমি নিজে বাংলা ভার্সন পড়েছি। রাতে শোয়ার আগে সাজেশন দেওয়ার অংশটা আমার জন্য খুব কাজ করেছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মন শান্ত লাগতো।

গল্পগুলো সত্যি আর অনুপ্রেরণাদায়ক। অনেক মানুষ বিশ্বাসের জোরে সুস্থ হয়েছে বা সফল হয়েছে। প্রতিদিন অল্প অল্প করে করলে ফল পাবেন।

তবে রাতারাতি সব ঠিক হয় না। অ্যাকশনও লাগবে। তারপরও এত কম দামে এমন বই পেলে নেওয়া উচিত।

বইটি কম দামে "বই রথ" থেকে কিনতে পারেন - www.boirath.com

জোসেফ মারফি কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?

জোসেফ মারফি আয়ারল্যান্ডে ক্যাথলিক পরিবারে বড় হয়েছেন। একসময় পাদ্রী হওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন।

পরে তিনি নিউ থট মুভমেন্টে যোগ দেন। লস এঞ্জেলেসে ডিভাইন সায়েন্স চার্চের মিনিস্টার হয়েছিলেন।

তিনি সব ধর্মকে সম্মান করতেন। খ্রিস্টান, হিন্দু আর মেটাফিজিক্স থেকে ভালো ভালো আইডিয়া নিয়েছেন।

Joseph Murphy কখনো একটা ধর্ম জোর করে চাপিয়ে দেননি।

মনের তৃতীয় স্তর কী?

জোসেফ মারফি মনকে তিনটা স্তরে ভাগ করেছেন –

  • প্রথমটা সচেতন মন – যেটা এখন আপনি নিয়ন্ত্রণ করছেন।
  • দ্বিতীয়টা অবচেতন মন। এটা অভ্যাস, আবেগ আর অটোমেটিক কাজ চালায়।
  • তৃতীয় স্তর হলো সুপারকনশাস বা ইউনিভার্সাল মাইন্ড। এটা অসীম বুদ্ধির সাথে যুক্ত ,আপনার ইচ্ছা অবচেতন মনে গ্রহণ করলে এটা বাস্তবে পরিণত করে।

এর মানে কী? এটা বোঝায় কেন কিছু চিন্তা বা প্রার্থনা হঠাৎ কাজে লাগে। শান্ত মনে বিশ্বাস রাখলে এই লেভেলে পৌঁছানো যায়।

আমাদের মস্তিষ্কের ৯৫ শতাংশ কি অবচেতন?

হ্যাঁ, অনেক সাইকোলজিস্ট বলেন আমাদের মস্তিষ্কের প্রায় ৯৫ শতাংশ অবচেতনভাবে কাজ করে। শ্বাস-প্রশ্বাস, অভ্যাস, সিদ্ধান্ত – সবকিছু এখান থেকে চলে।

মারফি এই কথা দিয়ে বোঝান যে পজিটিভ সেল্ফ-টক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অবচেতন মনই সব নিয়ন্ত্রণ করে।

তবে বিজ্ঞান বলছে পুরো মস্তিষ্কই সক্রিয় থাকে। তারপরও অবচেতন অংশটা অনেক বেশি প্রভাব ফেলে।

রিসার্চ দেখায় অবচেতন প্যাটার্ন বদলালে পুরো জীবন বদলে যেতে পারে। এই বই সেটাই শেখায়।

অবচেতন মন ব্যবহার করার বাস্তব উপায়

প্রথমে একটা ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন। যেমন ভালো স্বাস্থ্য বা আত্মবিশ্বাস। সেটা যেন ইতিমধ্যে হয়ে গেছে এমনভাবে লিখুন।

প্রতি সকালে আর রাতে জোরে জোরে বলুন। কথাগুলো পজিটিভ আর বর্তমান কালে রাখুন।

এরপর মানসিক ছবি তৈরি করুন। নিজেকে সেই অবস্থায় দেখুন। ঘুমানোর আগে ৫ মিনিট করুন।

সবচেয়ে বড় কথা – নিয়মিত করতে হবে। আমি এক মাস চেষ্টা করে মেজাজ আর ফোকাসে উন্নতি দেখেছি।

পুরনো রাগ-অভিমান ছেড়ে দিন। বইয়ে বলা হয়েছে এগুলো সাফল্য আটকে রাখে।

শেষে যেভাবে চান সেভাবে আচরণ করুন। প্রতিদিন ছোট ছোট পদক্ষেপ নিন। এতে অবচেতন মন দ্রুত প্রোগ্রাম হয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

The Power of the Subconscious Mind বইটি কি পড়ার যোগ্য?

হ্যাঁ, একদম পড়ার যোগ্য। বাংলা অনুবাদটা খুব সহজ। যারা মন বদলে জীবন বদলাতে চান তাদের জন্য দারুণ বিনিয়োগ।

জোসেফ মারফি কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?

জোসেফ মারফি শুরুতে ক্যাথলিক ছিলেন। পরে ডিভাইন সায়েন্সের মিনিস্টার হয়েছেন। তিনি সব ধর্ম থেকে ভালো শিক্ষা নিয়ে সার্বজনীন আইডিয়া দিয়েছেন।

মনের তৃতীয় স্তর কী?

মনের তৃতীয় স্তরকে বলা হয় সুপারকনশাস বা ইউনিভার্সাল মাইন্ড। এটা অসীম শক্তির সাথে যুক্ত এবং আপনার গভীর ইচ্ছা পূরণে সাহায্য করে।

আমাদের মস্তিষ্কের ৯৫ শতাংশ কি অবচেতন?

হ্যাঁ, দৈনন্দিন আচরণের প্রায় ৯৫ শতাংশ অবচেতন মন থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। এজন্যই ছোট ছোট পজিটিভ চিন্তা দিয়ে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

আমার শেষ কথা

বইটা এখনো অনেক প্রাসঙ্গিক মনে হয়। বাংলায় পড়লে আইডিয়াগুলো খুব সহজে মাথায় ঢোকে এবং কাজেও লাগে।

আমার মতে আসল ম্যাজিক তখনই শুরু হয় যখন আপনি প্রতিদিন ছোট ছোট করে প্র্যাকটিস করবেন। সবার ক্ষেত্রে একই রকম ফল নাও আসতে পারে।

তবু একবার চেষ্টা করে দেখুন। হারানোর কিছু নেই, পাওয়ার অনেক কিছু আছে। আপনার অবচেতন মন সত্যিই অপেক্ষায় আছে।

1 thought on “দ্য পাওয়ার অফ ইয়োর সাবকনশাস মাইন্ড বাংলা রিভিউ”

Leave a Comment