Green tea এর উপকারিতা সম্পর্কে বিজ্ঞান কী বলে

Green tea বা গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য জৈব যৌগ শরীরের কোষের ক্ষতি রোধে এবং বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পরিমিত গ্রিন টি পান করলে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং মস্তিষ্কের মনোযোগ বাড়ে। তবে এটি কোনো রোগের সরাসরি ওষুধ নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে কাজ করে।

গ্রিন টির উপাদানগুলো শরীরে কীভাবে কাজ করে, দিনে কতটুকু পান করা নিরাপদ এবং কারা এটি এড়িয়ে চলবেন, এই বিষয়গুলো জানা দরকার। নিচে বিজ্ঞানের আলোকে গ্রিন টির প্রভাব ও ব্যবহারের নিয়মগুলো বিস্তারিত দেওয়া হলো।

গ্রিন টিতে কী কী উপাদান থাকে

গ্রিন টি তৈরি হয় Camellia sinensis গাছের পাতা থেকে। চা পাতা শুকানোর সময় একে গাঁজন বা ফার্মেন্টেশন না করিয়ে সরাসরি তাপ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এই কারণে পাতার প্রাকৃতিক যৌগগুলো ভেঙে যায় না।

এই চায়ের প্রধান উপাদান হলো পলিফেনল (Polyphenol) নামের এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। গ্রিন টির মোট শুষ্ক ওজনের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই পলিফেনল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গবেষণা হয়েছে ক্যাটেচিন (Catechin) নিয়ে।

ক্যাটেচিনগুলোর মধ্যে ইজিসিজি (EGCG বা Epigallocatechin gallate) সবচেয়ে শক্তিশালী। এটি কোষের ভেতরে মুক্ত র‍্যাডিকেলের (Free radical) বিরুদ্ধে কাজ করে। মুক্ত র‍্যাডিকেল হলো এমন কিছু অস্থিতিশীল অণু যা কোষের ডিএনএ ও প্রোটিনের ক্ষতি করতে পারে।

এছাড়া গ্রিন টিতে পরিমাণমতো ক্যাফেইন, অ্যামিনো অ্যাসিড এল-থিয়ানিন (L-theanine), এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থ থাকে। এসব উপাদান মিলেই গ্রিন টিকে অন্য চায়ের চেয়ে আলাদা করে তোলে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব

গ্রিন টির EGCG শরীরে প্রবেশের পর কোষের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়লে কোষের বার্ধক্য ত্বরান্বিত হয় এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে EGCG এই ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনে।

বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজমের ক্ষেত্রে গ্রিন টির ভূমিকা বেশ আলোচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রিন টির ক্যাটেচিন ও ক্যাফেইন একসাথে কাজ করে শরীরের তাপ উৎপাদন বা থার্মোজেনেসিস (Thermogenesis) সামান্য বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বিশ্রামের সময়েও শরীর কিছুটা বেশি ক্যালরি খরচ করে।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় মানুষের শারীরিক পরিশ্রমের ধরন অনুযায়ী এই ক্যালরি খরচের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। তবে কেবল গ্রিন টি পান করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ওজন কমানো সম্ভব নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি গ্রিন টি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও গ্রিন টির কিছু ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। ক্যাটেচিন ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে খাবার খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ করে খুব বেশি বেড়ে যায় না।

হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপের ক্ষেত্রে গবেষণা কী বলছে

হৃদরোগ প্রতিরোধে গ্রিন টির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে। নিয়মিত গ্রিন টি পানকারীদের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরলের মাত্রা তুলনামূলক কম থাকতে দেখা গেছে।

এলডিএল কোলেস্টেরল রক্তনালির দেয়ালে জমা হয়ে প্লাক তৈরি করে, যা হৃদরোগের অন্যতম কারণ। গ্রিন টির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এই কোলেস্টেরলকে জারণ বা অক্সিডেশন থেকে রক্ষা করে। জারিত এলডিএল রক্তনালির জন্য বেশি ক্ষতিকর, আর গ্রিন টি সেই ক্ষতির ঝুঁকি কমায়।

রক্তচাপের ক্ষেত্রে গ্রিন টির প্রভাব দ্বিমুখী। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পান করলে এটি রক্তনালির নমনীয়তা বাড়াতে সাহায্য করে, যা স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে সহায়ক। তবে গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইন পানের পরপরই সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের এই সাময়িক বৃদ্ধি মাথাব্যথা বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের গ্রিন টি পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ক্যাফেইন ও L-Theanine এর সমন্বিত ভূমিকা

গ্রিন টিতে কফির তুলনায় অনেক কম ক্যাফেইন থাকে। এক কাপ গ্রিন টিতে সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে, যেখানে এক কাপ কফিতে ৯০ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম বা তার বেশি থাকতে পারে।

এই পরিমাণ ক্যাফেইন মস্তিষ্কে অ্যাডিনোসিন (Adenosine) নামক ঘুম ভাব তৈরি করা রাসায়নিকের কাজকে বাধা দেয়। ফলে আপনি বেশি সজাগ ও কর্মক্ষম বোধ করেন। তবে কফির মতো গ্রিন টি পানে সাধারণত হাত কাঁপা বা হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়ার মতো সমস্যা কম দেখা যায়।

এর পেছনে প্রধান কারণ হলো L-Theanine। এটি গ্রিন টিতে প্রাকৃতিকভাবে থাকা একটি অ্যামিনো অ্যাসিড। L-Theanine মস্তিষ্কে গ্যাবা (GABA), ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়ায়, যা মানসিক প্রশান্তি আনে।

ক্যাফেইন যেখানে উদ্দীপনা দেয়, L-Theanine সেখানে অস্থিরতা কমিয়ে মনোযোগ স্থির রাখে। এই দুটি উপাদানের সমন্বয়ে গ্রিন টি পানের পর একই সাথে সজাগতা ও মানসিক শান্তি অনুভূত হয়। দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা বা মনোযোগের কাজে এটি বিশেষভাবে কার্যকর।

দৈনিক কতটুকু গ্রিন টি পান করা নিরাপদ

গ্রিন টির উপকারিতা পাওয়ার জন্য দিনে কতটুকু পান করা উচিত, তা নির্ভর করে আপনার শরীরের ক্যাফেইন সহ্য করার ক্ষমতার ওপর। সাধারণ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে ৩ থেকে ৫ কাপ গ্রিন টি পান করা নিরাপদ বলে মনে করা হয়।

এই পরিমাণ পান করলে শরীর পর্যাপ্ত ক্যাটেচিন পায়, আবার ক্যাফেইনের মাত্রাও নিরাপদ সীমার মধ্যে থাকে। স্বাস্থ্যকর প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে মোট ক্যাফেইন গ্রহণের নিরাপদ সীমা সাধারণত ৪০০ মিলিগ্রামের নিচে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

একটি হিসাবের উদাহরণ: আপনি যদি দিনে ৪ কাপ গ্রিন টি পান করেন এবং প্রতি কাপে গড়ে ৪০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে, তাহলে আপনার মোট ক্যাফেইন গ্রহণ হবে ১৬০ মিলিগ্রাম। এই পরিমাণ ৪০০ মিলিগ্রামের নিরাপদ সীমার অনেক নিচে। ফলে আপনি চাইলে দিনের অন্যান্য সময়ে সামান্য কফি বা চকলেট খেলেও ক্যাফেইনের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

তবে যারা ক্যাফেইনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল, তাদের জন্য দিনে ১ থেকে ২ কাপই যথেষ্ট। অতিরিক্ত পান করলে উপকারের বদলে ঘুমের ব্যাঘাত বা পেটে অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা হতে পারে।

যাদের গ্রিন টি এড়িয়ে চলা বা সতর্ক থাকা দরকার

গ্রিন টি সবার জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থায় এটি পান করা থেকে বিরত থাকা বা সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে

গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ ভ্রূণের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের দিনে ক্যাফেইন গ্রহণ ২০০ মিলিগ্রামের নিচে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাই এই সময়ে গ্রিন টি পান করতে হলে দিনে ১ থেকে ২ কাপের বেশি পান করা উচিত নয় এবং চিকিৎসকের মতামত নেওয়া জরুরি।

রক্তস্বল্পতা বা আয়রনের ঘাটতি থাকলে

গ্রিন টিতে থাকা ট্যানিন (Tannin) ও ক্যাটেচিন খাবারের উদ্ভিদ-উৎস আয়রনের শোষণে বাধা দেয়। যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি আছে বা অ্যানিমিয়া রয়েছে, তাদের খাবারের সাথে সাথে গ্রিন টি পান করা উচিত নয়। খাবার খাওয়ার অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর গ্রিন টি পান করলে আয়রন শোষণের সমস্যা অনেকটাই এড়ানো যায়।

লিভারের সমস্যা থাকলে

সাধারণ চা পাতা থেকে তৈরি গ্রিন টি লিভারের জন্য নিরাপদ। তবে বাজারে পাওয়া কিছু উচ্চ মাত্রার গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট বা সাপ্লিমেন্টে অত্যধিক EGCG থাকে। খালি পেটে এই ধরনের উচ্চ মাত্রার এক্সট্র্যাক্ট গ্রহণ করলে লিভারে প্রদাহ বা ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। লিভারের রোগ থাকলে যেকোনো গ্রিন টি সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলা ভালো।

যারা নিয়মিত ওষুধ খান

গ্রিন টি কিছু ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন, রক্ত পাতলা করার ওষুধ (Blood thinner) বা বিটা-ব্লকার জাতীয় ওষুধের সাথে গ্রিন টির ক্যাফেইন ও ভিটামিন কে (Vitamin K) মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীদের গ্রিন টি পান শুরু করার আগে চিকিৎসককে জানানো উচিত।

সঠিক তাপমাত্রায় গ্রিন টি তৈরির নিয়ম

গ্রিন টি তৈরিতে পানির তাপমাত্রা ও সময় ঠিক না হলে এর স্বাদ তিতা হয়ে যায় এবং উপকারী উপাদান নষ্ট হতে পারে। ফুটন্ত পানি দিয়ে গ্রিন টি তৈরি করা একটি সাধারণ ভুল।

গ্রিন টি তৈরির সঠিক ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. পানি গরম করা: পানি ফুটতে শুরু করলে চুলা থেকে নামিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট অপেক্ষা করুন। পানির তাপমাত্রা ৭০ থেকে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হওয়া আদর্শ।

২. পাতা ভেজানো: কাপে বা চায়ের পাত্রে গ্রিন টি পাতা বা টি-ব্যাগ রাখুন। প্রতি কাপের জন্য ১ চা চামচ ঢিলা পাতা বা ১টি টি-ব্যাগ যথেষ্ট।

৩. সময় মেনে চলা: গরম পানি ঢেলে ২ থেকে ৩ মিনিট অপেক্ষা করুন। এর বেশি সময় ভিজিয়ে রাখলে পাতা থেকে অতিরিক্ত ট্যানিন বের হয়ে আসে, যা চায়ের স্বাদ তিতা করে দেয়।

৪. পাতা সরিয়ে ফেলা: নির্ধারিত সময় শেষ হলে টি-ব্যাগ বা পাতা তুলে ফেলুন। চায়ে চিনি না দেওয়াই ভালো। স্বাদ বাড়াতে সামান্য লেবুর রস বা মধু মেশাতে পারেন, তবে মধু চা কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর যোগ করবেন।

গ্রিন টি নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

গ্রিন টির জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে কিছু অতিরঞ্জিত দাবিও ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো যাচাই করা দরকার।

  • গ্রিন টি পান করলেই ওজন কমে যায়: গ্রিন টি বিপাকক্রিয়া সামান্য বাড়ায়, কিন্তু এটি সরাসরি চর্বি গলায় না। সুষম খাদ্য ও ব্যায়াম ছাড়া শুধু গ্রিন টি পান করে ওজন কমানো সম্ভব নয়।
  • গ্রিন টি ক্যানসার নিরাময় করে: ল্যাবরেটরিতে কোষের ওপর পরীক্ষায় গ্রিন টির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কিছু ইতিবাচক ফল দেখালেও, মানুষের শরীরে এটি ক্যানসার নিরাময়ের ওষুধ হিসেবে প্রমাণিত নয়। এটি ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে, নিরাময়ক নয়।
  • যত বেশি পান করা যায় তত ভালো: অতিরিক্ত গ্রিন টি পানে ক্যাফেইনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ ও হজমে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
  • সব গ্রিন টি সমান: চায়ের গুণগত মান নির্ভর করে পাতার উৎস, প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতি ও সংরক্ষণের ওপর। খোলা অবস্থায় দীর্ঘদিন রাখা পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ কমে যায়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

গ্রিন টি কি সকালে খালি পেটে খাওয়া যায়?

খালি পেটে গ্রিন টি পান করলে অনেকের পেটে অ্যাসিডিটি বা বমি বমি ভাব হতে পারে। গ্রিন টির ট্যানিন পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সকালে কিছু হালকা খাবার খাওয়ার পর গ্রিন টি পান করা বেশি নিরাপদ।

গ্রিন টি কি ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে?

হ্যাঁ, গ্রিন টিতে ক্যাফেইন থাকায় দিনের শেষভাগে বা রাতে পান করলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ক্যাফেইন শরীর থেকে পুরোপুরি বের হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। তাই ঘুমানোর অন্তত ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা আগে গ্রিন টি পান বন্ধ করা উচিত।

গ্রিন টি আর ব্ল্যাক টির মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

দুটি চা-ই একই গাছের পাতা থেকে তৈরি হয়। পার্থক্য হলো প্রক্রিয়াজাতকরণে। ব্ল্যাক টিকে গাঁজন বা ফার্মেন্ট করা হয়, যার ফলে এর ক্যাটেচিন ভেঙে অন্য যৌগে পরিণত হয়। গ্রিন টি গাঁজন করা হয় না বলে এর ক্যাটেচিন ও EGCG-এর পরিমাণ ব্ল্যাক টির চেয়ে অনেক বেশি থাকে।

গ্রিন টিতে কি লেবু মেশানো যায়?

লেবু মেশালে চায়ের স্বাদ বাড়ে এবং ভিটামিন সি যুক্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, লেবুর রসের ভিটামিন সি গ্রিন টির ক্যাটেচিনকে পরিপাকতন্ত্রে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। ফলে শরীর বেশি পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শোষণ করতে পারে।

বাচ্চারা কি গ্রিন টি খেতে পারে?

ছোট বাচ্চাদের ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো। ক্যাফেইন তাদের ঘুম, মনোযোগ ও হৃদস্পন্দনে প্রভাব ফেলতে পারে। বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও খুব হালকা করে তৈরি সামান্য পরিমাণ দেওয়া যেতে পারে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত পান করানো উচিত নয়।

শেষ কথা

গ্রিন টির উপকারিতা বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রমাণিত, তবে এর প্রভাব নির্ভর করে আপনি কীভাবে এবং কতটুকু পান করছেন তার ওপর। সঠিক তাপমাত্রায় তৈরি করে, দিনে ৩ থেকে ৫ কাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে এবং নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে গ্রিন টি পান করলে এর পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব। কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ খেলে গ্রিন টিকে আপনার খাদ্যাভ্যাসে যুক্ত করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

Welcome to Rise in Reading! I am Noman. I help businesses grow online by running Facebook Ads and writing good SEO content. I also really love reading self-help books. I made this website to share my marketing skills and my favorite book lessons with you. Whether you want to get more customers for your business or just find a great book to read, you are in the right place!

Leave a Comment